মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
ভ্যাপসা গরমে শিশুরা কাঁদছে, রাতভর চুলকে নিস্তেজ—আপনার ঘরেও লুকিয়ে আছে স্ক্যাবিস?
অনলাইন ডেস্ক
চৈত্রের দাবদাহে ত্বক যেন আগুন! আর এই তীব্র গরমেই ভয়ঙ্করভাবে বাড়ছে এক ছোঁয়াচে চর্মরোগ—স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া। প্রতিদিন রাজধানীর সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন গড়ে ১২০০ রোগী, যার ৯০ শতাংশই আক্রান্ত স্ক্যাবিসে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা।
এই রোগে আক্রান্ত হলে সারা শরীরে শুরু হয় অসহনীয় চুলকানি। আঙুলের ফাঁক, বগল, নাভি, যৌনাঙ্গ, কনুই, কবজি, এমনকি নিতম্ব পর্যন্ত চুলকানিতে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে রোগী। বিশেষ করে রাতের বেলা চুলকানি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি উঠে, ফেটে বের হয় পানির মতো তরল।
স্ক্যাবিস একবার একজনের হলে, পুরো পরিবার ঝুঁকিতে পড়ে। কারণ এটি ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, কাপড়চোপড়, চাদর, এমনকি বালিশ ব্যবহারের মাধ্যমেও রোগ ছড়ায়। তাই স্ক্যাবিস হলে শুধু একজন নয়, পরিবারের সবাইকে চিকিৎসা নিতে হবে একসাথে।
চিকিৎসা নিতে দেরি করলে স্ক্যাবিসের উপসর্গ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে মলম ও অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন করলে দুই সপ্তাহেই আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে অসতর্কতা থাকলে আবারও ফিরে আসতে পারে এই রোগ।
শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানতা আরও জরুরি। প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে গোসল, পরিষ্কার পোশাক, প্রচুর পানি ও ফলের রস খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে কড়া রোদে শুকানো বা আয়রন করা জরুরি। না হলে রোগ সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে পরিবারের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
অধ্যাপক ডা. ইশরাত ভুইয়া বলছেন, “গরম যত বাড়বে, তত বাড়বে রোগী—তাই এখনই চাই সতর্কতা আর পরিচ্ছন্নতা।”
এই গরমে শুধু ঘাম নয়, ত্বক বাঁচাতেও নিন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। নয়তো চুলকানির যন্ত্রণায় কাটবে অঘুম রাত!